নিজস্ব প্রতিবেদক: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক সুদীপ্ত শর্মার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।এরপর সুদীপ্ত শর্মার পরিববার ও নিকট আত্মীয় স্বজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মত ঘটনা ঘটে।
পাঁচ আগষ্টে ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনাসহ সরকারেরে মন্ত্রী এমপি অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।অনেকেই নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেন সেনা ক্যান্টমেন্টে।বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনির শিকার হয়ে অনেক ছাত্রলীগের নেতা মৃ-ত্যু-ব-র-ণ করেন এবং গুরুতর আহত হন।অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসতবাড়ি ও আত্মীয় স্বজনের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামালা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এখন ও নিরাপত্তাহীন ভুগছেন অনেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মী,একাধিক মামলা নিয়ে পালিয়ে রয়েছেন ছাত্রলীগের দূধর্ষ সন্ত্রাসী সুদীপ্ত শর্মা।তাকে পোষ্টার সাঁটিয়ে খুঁজছিল বিক্ষুব্ধ জনতা।হাতের নাগালে পেলে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাকে ধরতে ও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।দেশের মাটিতে কোথাও তার দেখা পেলে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা করতে পারে বলে জানা গেছে।
তিনি এখন ও আওয়ামীলীগের একাধিক অনলাইন প্লাটফর্ম ও সিআরআইয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন নাশকতা মূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অনুসন্ধানে জানা গেছে জীবন বাঁচাতে এখনও তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁকে না পেয়ে কয়েকদফা সুদীপ্ত শর্মার বাসায় খুঁজতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা লাঞ্চিত ও মারধরের শিকার হন।সুদীপ্ত শর্মা কান্নাজড়িত কন্ঠে এই প্রতিবেদক কে জানান।
আমার নাম সুদীপ্ত শর্মা। আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক, আমার জন্ম ১২ জুন ১৯৯৪ সালে ফেনী জেলায়। আমি যুক্তরাজ্যে আমার আশ্রয় প্রার্থনার সমর্থনে এই বিবৃতি প্রদান করছি, কারণ আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ইস্কনের অনুসারী হিসেবে আমার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আমার উপর নিপীড়নের যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।
আমি একটি রাজনৈতিকভাবে সচেতন পরিবারে বড় হয়েছি, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ গভীরভাবে সম্মানিত হতো। ছোটবেলা থেকেই আমি ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি দৃঢ় আদর্শিক প্রতিশ্রুতি গড়ে তুলি। এটি আমার ব্যক্তিগত পরিচয়কে গঠন করেছে এবং আমাকে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত করে।
২০১২ সালে আমি ফেনী জেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হই। আমি রাজনৈতিক সমাবেশ, জাতীয় কর্মসূচি, ছাত্র সংগঠন গঠন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পর আমার দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।
২০১৪ সালে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ধানমন্ডি থানা ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হই, যেখানে আমার দায়িত্ব ছিল সমন্বয়, সদস্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম সংগঠিত করা। ২০১৭ সালে আমি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে উন্নীত হই, যা আমার দৃশ্যমানতা ও দায়িত্ব উভয়ই বৃদ্ধি করে। এই পদে আমি একাধিক ইউনিট তদারকি এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব প্রদান করি।
২০২২ সালে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হই, যা আমাকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। এই পদে আমি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন, সারা দেশের জেলা পর্যায়ের কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং জাতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি। পাশাপাশি আমি সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (CRI)-এর মেট্রোপলিটন জোনে সংগঠক হিসেবে কাজ করি, যেখানে যুব রাজনৈতিক সচেতনতা এবং আওয়ামী লীগের বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলাম।
২৮ এপ্রিল ২০২২ সালে আমি উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্র ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসি, এবং পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল।
৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর পর, যখন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক অস্থিরতার মধ্যে পতিত হয়, তখন বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন এবং হয়রানি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের সম্মুখীন হন।
আমার উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব ও দৃশ্যমানতার কারণে আমি একজন রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হই। পরবর্তীতে আমি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হই। আমি হুমকি পেতে শুরু করি এবং জানতে পারি যে আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেশজুড়ে টার্গেট করা হচ্ছে।
এর ফলস্বরূপ, আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে একটি গুরুতর হত্যার অভিযোগ এবং আরেকটি রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগের সময় আমি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলাম, যা ইমিগ্রেশন রেকর্ড দ্বারা প্রমাণ করা সম্ভব। তা সত্ত্বেও, আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এই পরিস্থিতির কারণে আমার পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার আমার পারিবারিক বাড়িতে গিয়ে আমার আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ ও চাপ প্রয়োগ করেছে, যা তাদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
আমি সরাসরি ফোনকল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি পেয়েছি, যেখানে আমার রাজনৈতিক পরিচয় এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে আমাকে অপহরণ, নির্যাতন বা হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমাকে খুঁজে বের করার জন্য আর্থিক প্রলোভন দেওয়ার কথাও জানা গেছে।
আমি আমার স্ত্রী লিপি সাহার (জন্ম ২২ মার্চ ১৯৯৫) সঙ্গে ২৮ এপ্রিল ২০২৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই ঝুঁকি আমার ব্যক্তিগত জীবন ছাড়িয়ে আমার পরিবারের উপরও প্রভাব ফেলে।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আমার পিতার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আমি অল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে যাই। এই সময়ে জানতে পারি যে বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আমার স্ত্রীর পারিবারিক ঠিকানা শনাক্ত করেছে। ১৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে তারা সেখানে গিয়ে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর হুমকি দেয়, যার মধ্যে অপহরণ ও যৌন সহিংসতার হুমকিও ছিল এবং আমাকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এই ঘটনা রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে পারিবারিক হুমকিতে রূপ নেওয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
এই ঘটনার পর পরিস্থিতির গুরুতরতা বিবেচনায় আমি পুনরায় যুক্তরাজ্যে ফিরে আসি, কারণ বাংলাদেশে কোনো কার্যকর সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব ছিল না।
বাংলাদেশে স্বল্প সময় অবস্থানকালে আমি আমার পরিবার এবং আইনজীবীর মাধ্যমে জানতে পারি যে আমার নাম চলমান ফৌজদারি মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতেও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আমাকে জানানো হয়েছে যে দেশে ফিরলে আমাকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের ঝুঁকি রয়েছে।
আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি আমি একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু এবং ইস্কনের অনুসারী। ২০২৪ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। কিছু এলাকায় ইস্কন অনুসারীরাও হুমকি ও ভয়ের মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশে আমার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ভূমিকার পাশাপাশি আমি যুক্তরাজ্যে থেকেও রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত আছি। আমি সিআরআই এবং আওয়ামী লীগ-সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি এবং অনলাইনে রাজনৈতিক আলোচনা, তথ্য শেয়ার এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ করি।
আমি প্রবাসে থাকা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিই, যেখানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে আলোচনা হয়। এটি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ধারাবাহিকতা।
আমার পূর্বের উচ্চপদস্থ সম্পৃক্ততা এবং বর্তমান কার্যক্রমের কারণে আমি এখনও আওয়ামী লীগ-সম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে চিহ্নিত। আমি বিশ্বাস করি, এই পরিচয় আমাকে বাংলাদেশে ফিরে গেলে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
আমি যদি বাংলাদেশে ফিরে যাই, তাহলে মিথ্যা মামলার কারণে আমাকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হতে পারে। এর পাশাপাশি আমি নির্যাতন, অমানবিক আচরণ বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা করছি।
আমি প্রথমে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়ার উদ্দেশ্যে আসিনি। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমার আর দেশে ফেরার কোনো নিরাপদ উপায় নেই।
আমি বিনীতভাবে যুক্তরাজ্যের কাছে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি, যাতে আমি নিরাপদে, ভয়মুক্তভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে আমার জীবন পুনর্গঠন করতে পারি।