নিজস্ব প্রতিবেদক : ডেক্স রিপোর্ট, এসবিডিনিউজ : দীর্ঘ ৯ মাস গৃহবন্দী রেখে অমানবিক নির্যাতনের শিকার তাহসিন!
কার বাসায় বন্দি ছিল জানেন? তার নিজেরই বাসায়! কোনো প্রতিষ্ঠানে নয়, কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের হাতে নির্যাতিত হয়নি। নির্যাতিত হয়েছে এক কাটমোল্লা ও জিন মোল্লার হাতে।সন্তানকে নির্যাতন থেকে বাঁচাতে তার ‘মমতাময়ী’ মায়ের ভূমিকা কী ছিল জানেন? কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়া! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। তাহসিনের মা আক্ষরিক অর্থেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিত! পি’টু’নি শেষ করে এরা জখমে ব্লে’ড দিয়ে পো’স দিত।এরপর তার নির্দেশে তাহসিনের মা ক্ষ’ত’স্থা’নে লবণ ও গুঁ’ড়া’ম’রি’চ মিশিয়ে দিত। ওই কাজে ওর দুই খালাও জড়িত। ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ এতো দিন রূপগল্পে শুনলেও একজন মায়ের হাতে বাস্তবিক রূপ নিয়েছে!ভাবা যায়?!
’অমানবিক’ বলবো না অন্যকিছু, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। শিশুটির শরীরের এক ইঞ্চি জায়গাও আঘাত থেকে বাদ পড়েনি। পুরোটা শরীর ঝাঁ-ঝ-রা করে দিয়েছে! নির্বিঘ্নে, নিশ্চিন্তে, মা ও খালাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়, নয় মাস ধরে, ব*র্ব*র ও নি-ষ্ঠু-র-ভা-বে নির্যাতন করে আসছিল পা-ষা-ণ জা-নো-য়া-র!
নি-র্যা-ত-নে তাহসিনের মা ও দুই খালার পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। তারা তাহসিনের উভয় হাত পেছন দিকে জানালার গ্রিলের স-ঙ্গে বেঁ-ধে দিত। এরপর ওই লোকটা হাতের কাছে যা পেত, তা দিয়ে পিটাত। তাহসিন বাঁচাও বাঁচাও বলে গ’গ’ন’বি’দা’রী চিৎকার করত। চিৎকার যত বাড়ত, ওই জা-নো-য়া-র তত বেশি মারত। দরজা-জানালা বন্ধ সত্ত্বেও বাহির থেকে তাহসিনের আ-র্ত-চিৎ-কা-র কিছুটা শু-না যেত।
চিৎকার শুনতেন আশিক আহমদ। পরখ করলেন কোন বাসা থেকে এতো চিৎকার আসে। গেলেন বাসায়। ১৬ পারার হাফিজ, ১০ বছরের নিষ্পাপ শি-শু-কে অমানবিক নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে জানোয়ারটা বলল—’আমার সন্তানকে আমি মারছি, তুই কে? তোর কী হইছে?!’ তাহসিনের মা বলল—’বাপ তার ছেলেকে মারছে, তোমার কী?!’ খালাদেরও একই কথা।
ওই জানোয়ারটা কি আসলেই বাবা? তাহসিন এক ভিডিওতে বলেছে—“আমি তাকে চিনি না। সে আমাদের কেউ নয়। আমার আব্বা প্রবাসী। তিনি এসব জানেন না। সে আমার আম্মা ও খালাদের সাথে লুডু খেলত। আমার খালাদের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে দেখতাম।”
তাহসিনের এই বর্ণনা থেকে তার মা ও খালাদের সঙ্গে ওর সম্পর্কের ধরনটা বুঝতে বাকি নাই। একজন পরপুরুষ, যার সঙ্গে আত্মীয়তা কিংবা বৈবাহিক কোনো সম্পর্ক নেই—সে পাঁচজন (মা, দুই খালা, বোন ও খালাতো বোন) নারীদের নিয়ে একই বাসায় বছর ধরে একত্রে বসবাস ও খেলতামাশা করে আসছিল—বিষয়টা কি খুব স্বাভাবিক? ওদের গোমর ফাঁস করে দেয়ার ভয়ে তাহসিনকে ধীরে ধীরে মে-রে ফে-লা-র চে-ষ্টা করেছে—এটাও অসম্ভব নয়!
পনের-বিশ দিন থেকে তাহসিনের আ-র্ত-চিৎ-কা-র শুনতে না পেয়ে আশিক আহমদ চিন্তায় পড়ে গেলেন যে, মনে হয় ওরা ছেলেটাকে মেরে ফেলেছে! বন্ধু-বান্ধব কয়েকজনকে নিয়ে খোঁজখবর নিতে গেলেন। তখনই দেখতে পেলেন তাহসিনের এই ক-রু-ণ অবস্থা! আওয়াজ যাতে বাইরে না যায়— সেজন্য মুখে স্ক-চ-টি-প পেঁচিয়ে, কখনো গামছা দিয়ে বেঁধে পিটাত জানোয়ারটা। একারণে আহাজারির আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল না। ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশ ডাকলেন। পুলিশ এসে তদন্ত করে, জা-নো-য়া-র-টা-কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
তাহসিনের আব্বাকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করলে তিনি কা-ন্না শুরু করেন। তিনি বলেন—“আমার বাসায় তো কোনো পুরুষ মানুষ নাই। ওই লোকটাকে আমি চিনি না। আমার ছেলের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে আমি জানতাম না।”
তাহসিন তার আব্বার সঙ্গে ফোনের সুযোগ পেত না। কখনো কথা বললে, ওর মা সামনে খাড়া থাকতেন। একারণে সে বিষয়টি বলতে পারত না। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ভয়ে বলতও না।
তাহসিনকে নির্যাতনের স্ট্রিমরোলার থেকে উদ্ধার করে, অপরাধীকে পুলিশে সোপর্দ করা পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সঙ্গে ওর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারা হলেন— আশিক আহমদ, আনসার মিয়া, দেওয়ান তাকওয়া সহ হিলভিউ টাওয়ার ও খাদিমপাড়ার বেশকয়েকজন তরুণ। মজলুমের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।তাহসিন দীর্ঘ নয় মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে—তারই বাসায়, তারই মা ও খালাদের সহযোগিতায়, এক জা-নো-য়া-র পা-ষা-ণ্ড কুলাঙ্গারের হাতে! পূর্বের মাদরাসা থেকে নয় মাস আগেই তাকে নেওয়া হয়েছে।
তাহসিনের আত্মীয়দের কাছে অনুরোধ করছি—বিষয়টা শক্ত করে ধরুন। চুল পরিমাণ ছাড় দিবেন না। মা ও খালাদের ছেড়ে দিবেন না। কু-লা-ঙ্গা-র গ্রেফতার হলেই হবে না, ওর শা-স্তি নিশ্চিত করুন। একই সঙ্গে ওর মা ও খালাদের আইনের কাছে সোপর্দ করুন। সবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করুন। সবার শা-স্তি নিশ্চিত করুন।