নিজস্ব প্রতিবেদক : নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ক্যাডার হাসিবুল ইহসান এর বসতবাড়ি,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মত ঘটনা ঘটে।পাঁচ আগষ্টে ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনাসহ সরকারেরে মন্ত্রী এমপি অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।অনেকেই নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেন সেনা ক্যান্টনমেন্টে,ছাত্র জনতা ও তৌহিদা জনতার গণপিটুনির শিকার হয়ে অনেক ছাত্রলীগের নেতা মৃত্যুবরণ করেন।অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসতবাড়ি ও আত্মীয় স্বজনের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামালা ভাংচুর অগ্নিসংযোগের মত ঘটনা ঘটে।
এখন ও নিরাপত্তাহীন ভুগছেন অনেক ছাত্রলীগের নেতা,একাধিক মামলা নিয়ে পালিয়ে রয়েছেন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি হাসিবুল ইহসান। তাকে পোষ্টার সাঁটিয়ে খুঁজছিল বিক্ষুব্ধ জনতা।হাতের নাগালে পেলে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাকে ধরতে ও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি এখন ও আওয়ামীলীগের একাধিক অনলাইন প্লাটফর্ম ও সিআরআইয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন নাশকতা মূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অনুসন্ধানে জানা গেছে জীবন বাঁচাতে এখনও তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁকে না পেয়ে কয়েকদফা তৌহিদ আহমেদ তানিম এর বাসায় খুঁজতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা লাঞ্চিত ও মারধরের শিকার হন।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যেসব মামলায় রয়েছেন এমন মামলায় ও হাসিবুল ইহসানের নাম যুক্ত রয়েছে। মোকাম: বিজ্ঞ চীপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা সুত্র সি আর মামলা নং ১১৬৬/২০২৫ পল্টন থানা,সংশ্লিষ্ট ধারা ১১৪/১৪৭/১৪৮/১৪৯//৩০২/৩৪ পেনাল কোড।
এমতাবস্থায় দেশের মাটিতে পা রাখলো তিনি প্রা-ণ হারাতে পারেন,বিগত আওয়ামীলীগের শাসনামলে বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছাত্রলীগের ক্যাডার হাসিবুল ইহসান উপর এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
হাসিবুল ইহসান এই প্রতিবেদক কে জানান আমার নাম হাসিবুল ইসলাম। আমার জন্ম ১২ জুলাই ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায়। আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক।
আমি এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছি, যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থক। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এই পরিবেশের কারণে ছোটবেলা থেকেই আমার রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
২০১৬ সালে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)-এ যোগদান করি। আমি ঢাকা মহানগর ইউনিটের অধীনে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে শুরু করি। আমার দায়িত্বের মধ্যে ছিল ছাত্রদের সংগঠিত করা, আওয়ামী লীগের আদর্শ প্রচার করা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনোনীত নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য হিসেবে কাজ করি। এই দায়িত্বে আমি নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করি।
২০২২ সালে আমাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, যা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অংশ। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা এবং দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের একটি উপ-কমিটির সদস্য হিসেবেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই ভূমিকায় আমি রাজনৈতিক কর্মসূচি, ছাত্র সম্পৃক্ততা কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগ সংগঠনে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখি।
২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও আমি নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির অংশ হিসেবে কাজ করি। আমাকে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন আসনে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন জেলায় সমন্বয়মূলক কাজের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করি।
২০২৪ সালে আমি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হই। এই নেতৃত্বের ভূমিকায় আমি বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করেছি, সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করেছি এবং ঢাকাজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি আয়োজনে অবদান রেখেছি। এছাড়াও, আমি ঢাকার সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (CRI)-এর সাথে কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছি। আমি বিভিন্ন প্রচারণা এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছি, যার মধ্যে “ইয়াং বাংলা” প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত, যা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন প্রচার করে।
আমি বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি, যেখানে আমি সাংগঠনিক সমন্বয় এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রমে সহায়তা করেছি।
আমার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সময় আমি নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ শিবির, ছাত্র সম্মেলন, মানববন্ধন, সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করেছি। এছাড়াও আমি জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদান করেছি।
আমি ১৪ মার্চ ২০২৪ তারিখে ছাত্র ভিসায় যুক্তরাজ্যে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করি। এরপর থেকে আমি লিভারপুলে বসবাস করছি। যুক্তরাজ্যে আসার পরও আমি আমার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুক্তরাজ্য ইউনিটের সাথে সক্রিয় হই। আমি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছি এবং আওয়ামী লীগের আদর্শ প্রচার চালিয়ে গেছি।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর আমার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে আমি গুরুতর হুমকির মুখে পড়ি। আগস্ট ২০২৪ সালে আমার পারিবারিক বাড়িতে হামলা হয়। এই ঘটনা আমাকে উপলব্ধি করায় যে বাংলাদেশে আমি আর নিরাপদ নই।
এরপর আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে হত্যা, ভাঙচুর এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২৫ সালের শেষের দিকে আমি জানতে পারি যে একটি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীর হত্যাকাণ্ডে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগিত ঘটনার সময় আমি যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে একটি সভায় উপস্থিত ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই মামলা সাজানো হয়েছে।
এই অভিযোগের পর পুলিশ আমার বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালায়। এসব অভিযানের সময় আমার বাবাকে হয়রানি করা হয় এবং আমাদের বাড়ির সম্পত্তির ক্ষতি করা হয়। যদিও আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবুও আমি ক্রমাগত হুমকির মধ্যে রয়েছি।
আমি বিরোধী দল বিএনপি এবং জামায়াত সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে বারবার হুমকি পেয়েছি। এই হুমকিগুলো ফোনের মাধ্যমে এবং সরাসরি দেওয়া হয়েছে। আমাকে সতর্ক করা হয়েছিল যে আমি যদি রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ না করি, তাহলে আমাকে হত্যা করা হবে।
আমি বিশ্বাস করি, যদি আমি বাংলাদেশে ফিরে যাই, তাহলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দ্বারা আমার জীবন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর ইতোমধ্যে হামলা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য আত্মগোপনে রয়েছে। আমি আরও জেনেছি যে আমার কিছু রাজনৈতিক সহকর্মী এবং তাদের পরিবারের ওপরও হামলা হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ নিহত বা গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।
আমি একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং নেতৃত্বস্থানীয় পদে থাকার কারণে আমি একটি স্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু। আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রাপ্ত হুমকির কারণে আমি সত্যিকার অর্থে আশঙ্কা করছি যে বাংলাদেশে ফিরে গেলে আমার জীবন হুমকির মুখে পড়বে।
এই কারণে আমি যুক্তরাজ্যে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি, কারণ আমি বিশ্বাস করি আমার নিজ দেশে ফিরে গেলে আমি তাৎক্ষণিক বিপদের সম্মুখীন হব।