নিজস্ব প্রতিবেদক : ডেক্স রিপোর্ট : এসবিডিনিউজ -সিলেটে বিকাশ এজেন্টদের কাছে বিতরণের জন্য নেওয়া কোটি টাকার মধ্যে ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে টাকাবাহী গাড়ির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে মোগলাবাজার থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার একটি ডিস্ট্রিবিউশন অফিস থেকে কোম্পানির সুপারভাইজার শাহেদ আহমদ, ড্রাইভার কামাল হোসেন, ডিএসও আদনান, আবু তাহের ও রুপায়ন বিশ্বাস একটি প্রাইভেটকারযোগে ফেঞ্চুগঞ্জের বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে রওনা দেন। গাড়িতে ৭টি ব্যাগে মোট ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল।
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মোগলাবাজার থানাধীন লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল গাড়িটিকে থামার সংকেত দেয়। অভিযোগ রয়েছে, গাড়ির চালক গতি কমিয়ে দিলে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়ির পথরোধ করে। পরে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং একজনকে মারধর করে ৫টি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, ডাকাতরা আগেই টাকাবাহী গাড়ির গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিল। এছাড়া ঘটনার সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্যরা গাড়ির সঙ্গে উপস্থিত না থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে অজ্ঞাত ডাকাতদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং টাকার গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সরবরাহের অভিযোগে গাড়িতে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিসহ মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানির সুপারভাইজার শাহেদ আহমদ, ড্রাইভার কামাল হোসেন, ডিএসও আদনান, আবু তাহের, রুপায়ন বিশ্বাস এবং নিরাপত্তাকর্মী রোমান আহমদ, সালমান আহমদ, গোলাম শহীদ ও জুনায়েদ।এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানায় দণ্ডবিধির ডাকাতি সংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এত বড় অঙ্কের টাকা বহনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কেন এমন গাফিলতি ছিল এবং এটি শুধুই ডাকাতি নাকি ভেতরের কারও পরিকল্পিত যোগসাজশ সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।