নিজস্ব প্রতিবেদক : এসবিডিনিউজ – ডেক্স রিপোর্ট :সিদ্ধিরগঞ্জে বেইস স্কুলের ‘ও’ লেভেল এর মেধাবী ছাত্র মোঃ ইয়াছিন আরাফাত(১৭) হত্যাকান্ড : ৪ জন আসামির বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি
ডিসিস্ট মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (১৭) নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন বেইস স্কুলের ১০ম শ্রেণীতে পড়াশুনা করতো। গত ইং ১১/০৮/২০২৫ তারিখ সময় সন্ধ্যা অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (১৭) তার মায়ের ঔষধ কেনার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে বাড়ীতে ফেরত না আসায় পরবর্তীতে তার মা মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (১৭) এর নিখোঁজের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন, যাহার ডায়েরী নং-৭৮৫, তাং- ১২/০৮/২৫ইং। বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুজি’র একপর্যায়ে গত ইং ১৩/০৮/২০২৫ তারিখ সময় সকাল অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকায় জানতে পারেন যে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সিদ্ধিরগঞ্জপুলস্থ মেসার্স আশরাফ আলী এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে লেকপাড়ে পানিতে বাদীনির ছেলের লাশ পাওয়া গিয়াছে।ডিসিস্ট এর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধে মৃত্যুর কারণ ঘটেছে উল্লেখ করায় ডিসিস্ট এর মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নাম্বার-২৮, তারিখ – ১৯/১০/২০২৫, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক মামলাটি তদন্ত করাকালীন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে
গত ১৬/০৩/২০২৬ তারিখে অত্র মামলার তদন্তভার পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার উপর ন্যস্ত হলে এসআই (নি:) মো: মনিরুজ্জামানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার আভিযানিক টীম তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিসিস্ট ইয়াসিন আরাফাত হত্যাকান্ডের মূল আসামী মোঃ আজিম হোসাইন (২৭), পিতা- আবুল বাশার, মাতা- নার্গিস বেগম, সাং- বরাব, পোস্ট- বরাব, থানা- সোনারগাঁও, জেলা- নারায়ণগঞ্জকে গত ইং ০৫/০৫/২০২৬ তারিখ ডিএমপি ঢাকার ডেমরা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (১৭) কে হ-ত্যা-র কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে এবং উক্ত হ-ত্যা-কা-ন্ডে জড়িত অন্যান্য আসামীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করেন। উক্ত আসামীকে গত ইং ০৬/০৫/২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামী মোঃ আজিম হোসাইন (২৭) নিজের দোষ স্বীকার করত ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের নাম প্রকাশ করে ফৌ: কা: বিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি প্রদান করে।
উল্লিখিত আসামীর প্রদত্ত তথ্যাবলী পর্যালোচনা করে গত ইং ০৬/০৫/২০২৬ তারিখ ২নং আসামী ফয়সাল (২৭) পিতা মোঃ নাসির উদ্দিন,সাং- শিমরাইল,থানা-সিদ্ধির গঞ্জ, জেলা-নারায়নগঞ্জকে ডিএমপি ঢাকার কদমতলী থানাধীন শনির আখরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং একই দিন ৩নং আসামী নুসরাত জাহান মিম (২৪), পিতা-মহসিন মিয়া, মাতা-জয়নব আক্তার, সাং-মৈকুলী,থানা-রূপগঞ্জ, জেলা- নারায়নগঞ্জকে রূপগঞ্জ থানাধীন বরাব এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার সাথে থাকা একটি রেডমি সোনালী রংয়ের এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উপস্থিত সাক্ষীদের মোকাবেলায় জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।
মামলাটি তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য, বিজ্ঞ আদালতে প্রদত্ত দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত ৩ নং আসামী নুসরাত জাহান মিমের সাথে তার কলেজ এর বন্ধু ইয়াসিন আরাফাত নামক একজনের পরকীয়া সম্পর্কের কারণে মিমের স্বামী ০১ নং আসামী আজিম হোসাইন তার স্ত্রী মিমের আপন ফুফাতো ভাই ডিসিস্ট ইয়াসিন আরাফাতকে তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক হিসেবে গণ্য করে এবং সেই ক্ষোভ থেকে ০১ নং আসামী ডিসিস্ট ইয়াসিন আরাফাতকে হ-ত্যা-র পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ০১ নং আসামী আজিম হোসাইন, ২নং আসামী ফয়সাল ০৪ নং আসামী জাহিদ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ জন আসামীকে সাথে নিয়ে সিএনজিযোগে ডিসিস্ট ইয়াসিন আরাফাতকে গত ১১/০৮/২০২৫ ইং তারিখ সন্ধ্যায় কৌশলে ডেকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকপাড়ে নিয়ে গিয়ে সকল আসামী মিলে ডিসিস্টকে গামছা দিয়ে গলায় পেচিয়ে শ্বা-স-রো-ধ করে হ-ত্যা করে এবং মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ডিএনডি লেকের পানিতে ফেলে দেয়।
ডিসিস্ট ইয়াছিন আরাফাত (১৭) হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।