এসবিডিনিউজ : নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে অনেক রহস্যজনক মৃ*ত্যু শুধুমাত্র তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকে,শুরুতে কিছু প্রতিবাদ হলেও কয়েকদিন পর এসব মানুষ ভুলে যায়,তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ও বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।
জানা যায় সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বিরশ্রী ইউনিয়নের আকাকল্যাণ গ্রামে মাহিনা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ-ত্যু-র ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে এটি হ*ত্যা*কা*ণ্ড নাকি আ-ত্মহ-ত্যা এ নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মাহিনা বেগম পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের বাদশাহ মিয়ার মেয়ে। মাত্র এক বছর আগে জকিগঞ্জ উপজেলার আখাকল্যাণ গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে নোমান উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। নবদম্পতির কোলজুড়ে রয়েছে মাত্র তিন মাস বয়সী এক ফুটফুটে দুধের ছেলে সন্তান। এই অবুঝ শিশুকে রেখে মায়ের এমন আকস্মিক ও রহস্যময় চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
নিহতের মামা আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর মাহিনার সংসার মোটামুটি ভালোই চলছিল। সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ তাঁরা মাহিনার মৃ*ত্যু*র খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মৃ*ত্যু*র ধরণ দেখে গভীর সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। আবুল হোসেনের দাবি, মাহিনাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বা’স’রো’ধ করে হ*ত্যা করার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মরদেহের গলায় ফাঁ*সে*র স্পষ্ট চিহ্ন থাকায় একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে নিহতের বোনের দেওয়া বক্তব্য ঘটনাটিকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলেছে। তিনি জানান, মাহিনার বাপের বাড়ির সদস্যরা যখন গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান, তখন শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রথমে দাবি করেন মাহিনা ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মা*রা গেছেন। কিন্তু পরে যখন তাঁর গলায় ফাঁ*সে*র দাগ দেখা যায় এবং বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তখন রহস্যজনকভাবে শ্বশুরবাড়ির বেশ কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
পুলিশের উপস্থিতির পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগের বক্তব্য সম্পূর্ণ বদলে ফেলে দাবি করেন যে মাহিনা আ*ত্ম*হ*ত্যা করেছেন। এই ঘন ঘন বক্তব্য পরিবর্তন ও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হ*ত্যা*র সন্দেহের তীরকে আরও ঘনীভূত করছে।
নোমান উদ্দিনের চাচা আফতাব উদ্দিন নুমানী জানান, তিনি পাশের বাড়িতে থাকেন। মাহিনার মৃ*ত্যু*র খবর পেয়ে তিনি যখন ঘটনাস্থলে যান, তখন পুরো বিষয়টি তাঁর কাছেও অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর তিনিই জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি পালঙ্কের নিচে মাহিনার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সুজন মিয়া বলেন, “আমরা খবর পেয়ে দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহের গলায় হালকা ফাঁ*সে*র চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এটি হ*ত্যা নাকি আ*ত্ম*হ*ত্যা—সে বিষয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার সবকটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংগৃহীত আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।