নিজস্ব প্রতিবেদক : এসবিডিনিউজ – জকিগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে আকষ্মিক সিলেট -৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসানের পরিদর্শন ও আলাপচারিতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়।যা নিয়ে রীতিমতো আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া এই বিষয়ে নিজের ফেইসবুক আইডিতে পোষ্ট দেন,সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী ও পৌরসভা ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা,সাবেক জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন হিরা,নিম্নে হুবুহু তা তুলে ধরা হল।
আসলে ইদানীং ফেইসবুকে লেখার কোন ইচ্ছে নেই। চলমান একটা ইস্যুর জন্য কিছু একটা লিখতে বাধ্য হলাম। আজকাল নতুন একটা সংস্কৃতি চালু হয়েছে যা হচ্ছে ভাইরাল সংস্কৃতি। যোগ্যতা ছাড়া মোবাইল হাতে যেমন সবাই সাংবাদিক।ঠিক তেমনি এখন সবাই নেতা ও ভাইরাল হতে ব্যাস্ত। কেউ কাজের কাজ কিছু করতে রাজী নয়। কিছু দিন আগে দেখলাম সিলেটের ডিসি সাহেব জকিগন্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন, ঈদের দিন দেখলাম একজন সহকারীর মাধ্যমে সাস্থ্যমন্ত্রী মোবাইল ফোনে (যা সম্পূর্ন অযোচিত) পরিদর্শন করলেন, গতকাল আবার স্থানীয় এমপি সাহেব সাথে উনার নেতদের নিয়ে (যা সম্পূর্ন অযোচিত) হাসপাতাল পরিদর্শন করে ভাইরাল হলেন। এসবের মানে কি!
এসব পরিদর্শন শেষে কি লাভ হলো জনগণের ! কি পেলো হাসপাতাল ! প্রশাসনের আর কোন খাতে কি কোন দূর্নীতি হচ্ছে না। দেশের শিক্ষা, সড়ক, যোগাযোগ, আইন, বিচার প্রশাসন, সহ সকল যায়গায় বিগত ১৬/১৭ বছরে যেখানে দূর্নীতি একটা ক্যান্সার হয়ে দাড়িয়েছে। সেখানে বারবার কেনো সবাইকে শুধু এই একই হাসপাতালে যেতে হবে। এসব নাটক না করে আমার প্রশ্ন উনারা কি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স, ষ্টাফ ও মেডিসিন এর ব্যাবস্থা করতে পেরেছেন? উনারা কি হাসপাতালের বেড সহ প্রয়োজনীয় সব জিনিস পত্র সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরবরাহ করতে পেরেছেন? হাসপাতাল এর বেড সংখ্যা কি বাড়াতে পেরেছেন!
না এসব কোন কিছুই কেউ করেন নাই। কিংবা এসবের জন্য যে কাজ করতে হবে সেদিকেও তাদের কোন দৌড় ঝাপ নেই। সবাই নিজেদের হিরো আর ভাইরাল বানতে ব্যাস্ত। তাই অযথা ডাক্তারদের পিছনে না লেগে তাদেরকে কাজ করতে দিন।এদেশে অনেক ভালো ভালো ডাক্তার আছে। যারা মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। তারাও মানুষ। তাদের ও পরিবার পরিজন আছে। মনে রাখবেন সব যায়গায় এক দুজন খারাপ মানুষ আছে। তার মানে সবাই খারাপ নয়। ডাক্তাররাও মানুষ তাদের ও কাজের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। তার মধ্যে থেকেই তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
একবার ভাবুন সারা উপজেলায় একটাই সরকারী হাসপাতাল তার উপর জনবল সংকট। ডাক্তার সাহেব সে তো আর আলাদীনোর দৈত্য না যে একাই সব কিছু ঠিক করে দেবে। একবার ভাবুন আপনাদের এসব হয়রানির প্রতিবাদে তারা যদি সেবা প্রদান বন্ধ করে তাহলে কি হবে। আপনাদের তো কিছু হবে না, যা হওয়ার সাধারণ মানুষের হবে। সুতরাং সবাই এসব নাটক না করে তাদের কাজে সহায়তা করুন।প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপে নিতে তাদের কে সহায়তা করুন ও ভাইরাল না হয়ে নিজের উপর দায়িত্ব পালন করুন। তাহলে সমাজ ও দেশ কিছু একটা পাবে।