এসবিডিনিউজ : নিজস্ব প্রতিবেদক,সিলেটের আজ কানাইঘাটের পাঁচ রেমিট্যান্স যোদ্ধার নি-থ-র দেহ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৭টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম'র'দে'হ গুলো পৌঁছায়।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে এই পাঁচ বাংলাদেশির ম'র'দে'হ দেশে আনা হয়েছে।এ সময় নি'হ'ত'দে'র পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন।
বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ম'র'দে'হ গুলো গ্রহণ করেন সিলেট ৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান ও ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বকর ও বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার লোকমান উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী,ইকবাল আহমদ তাপাদার,মামুনুর রশীদ (চেয়ারম্যান), আব্বাস উদ্দিন, কামাল উদ্দিন ।
জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো: ফখরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা আনওয়ার হোসাইন খান, সাইফুল্লাহ হোসাইন, আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রহিম, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।
পাঁচ প্রবাসীর সম্মিলিত জানাজার নামাজ আজ দুপুর ২ ঘটিকার সময় দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের মাযাহিরুল উলূম কওমী মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নি*হ*ত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর মৃ*ত্যু*তে পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানা গেছে, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার বছর আগে কাতার যাওয়া কাদির আহমদের (৩৩) আগামী মাসে প্রথমবার দেশে ফেরার কথা ছিল। সড়ক দুর্ঘটনা তার সব স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কাতার ফিরেছিলেন জুবের আহমদ (২৮)। যার বাবা মরা মিয়াও ১২ বছর আগে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। জুবেরের বাড়িতে এক সন্তান ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাশের অপেক্ষায়।
এছাড়া নিহত দুই সন্তানের জনক জসিম উদ্দিনের (৩৮) বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষটিকে হারিয়ে তার পরিবার এখন যেন অনিশ্চয়তার অথৈ সাগরে ভাসছে।