এসবিডিনিউজ : নিজস্ব প্রতিবেদক -পুলিশ কেন আসামি ধরার পর মুখ ডেকে ছবি আপলোড দেয়,বা প্রেস রিলিজ এ মুখ ডাকা ছবি মিডিয়ার কাছে হস্তান্তর করে এই বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
এসব নিয়ে পুলিশ কিংবা গণমাধ্যমের নিউজ বা পোস্টে অনেক জনগণ নেগেটিভ কমেন্ট করে।পুলিশ বা মিডিয়াকে না বুঝে অনেকেই গালমন্দ করে ও মনগড়া মন্তব্য জুড়ে দেয়,এতে নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়,তাহলে শুনুন আসল বিষয়,আইন কি বলে? পুলিশ যেহেতু আইনের রক্ষক সেহেতু আইনের বাহিরে যেতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। মাঝে মধ্যে অধিক ভাইরাল হলে বা কেউ ঝুঁকি নেয় এতে ব্যতিক্রম কিছু হয় সেটি হল ভিন্ন বিষয়।
দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা কেউ দেশের প্রচলিত আইনের উর্ধে নয়,পুলিশ কিংবা প্রকৃত মূলধারার গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের সংবিধান রক্ষা সমুন্নত রেখে ও প্রচলিত আইন মেনে কাজ করার শপথ নিয়েছেন ও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে এই চরম বাস্তবতা হয়ত আমাদের অনেকের বোধগম্য নয়?
গ্রেফতারকৃত আসামিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা মিডিয়ার সামনে হাজির করা বা মুখ দেখানো বেআইনি।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্তের আগেই আসামিকে অপরাধী হিসেবে প্রচার করলে তা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে গণ্য হয়, যা ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।হাইকোর্ট ও আইন অনুযায়ী আসামির মুখ না দেখানোর মূল কারণ ও নির্দেশনাগুলো হলো-
আইনগত অধিকার (নির্দোষ প্রমাণের অধিকার) প্রতিটি নাগরিক আদালতের রায়ের আগে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। মিডিয়াতে ছবি বা মুখ দেখালে সমাজে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং পরবর্তীতে তিনি একটি ‘ন্যায্য বিচার’ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়া-কোনো সাক্ষী যদি আদালতে আসামিকে শনাক্ত করতে চান, তবে মিডিয়াতে মুখ দেখে ফেললে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার (আইডেন্টিটি প্যারেড) বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হলে এই প্রচার আর ফিরিয়ে আনা যায় না।
বিচারবহির্ভূত জনরোষ বা হেনস্থা- তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করলে আসামি বা তার পরিবার জনগণের দ্বারা অযথা হেনস্থা বা হামলার শিকার হতে পারে।
আদালতে বা প্রকাশ্যে উপস্থাপনের সময় পুলিশ আসামির মুখ ঢেকে বা ছবি ঘুরিয়ে দেয় কারণ আইনে প্রত্যেককে ‘নিরপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হয় যতক্ষণ না তার অপরাধ প্রমাণিত হয়। এটি আসামির মানবাধিকার রক্ষা, মিডিয়া ট্রায়াল (মিডিয়া বিচার) রোধ এবং সুষ্ঠু তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য করা হয়।
এ বিষয়ে আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো-
আইন কী বলে?আইনের চোখে সবাই নির্দোষ দেশের প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বলা যায় না।দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই আসামির ছবি বা পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তার ও তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।
এমনকি নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সেই দাগ সহজে মুছে যায় না।কোনো আসামিকে প্রকাশ্যে আনার আগে বা ছবি দেখিয়ে দিলে, ভিকটিম বা সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং সাক্ষ্যদান প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
হাইকোর্টের নির্দেশনামিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ- আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, পুলিশি হেফাজতে থাকাবস্থায় কোনো আসামিকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা বা তাদের বক্তব্য প্রকাশ করা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আদালতের বাইরে বক্তব্য নিষিদ্ধ:পুলিশ হেফাজতে থাকা বা দণ্ডিত আসামিরা বিচারকের সামনে ব্যতীত আদালতের বাইরে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে বা বক্তব্য দিতে পারবেন না।
জনমনে প্রভাব রোধ- তদন্তাধীন বিষয়ে জনমত যাতে প্রভাবিত না হয় এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষ থাকে, তা নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের কড়া নির্দেশনা রয়েছে।