এসবিডিনিউজ:নিজস্ব প্রতিবেদক - মূলত বিষয়টি সামনে আসনে,সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শাহরিয়ার নাজিম জয় এর একটি ভিডিও আপলোড নিয়ে তিনি রীতিমতো ক্ষেপলেন!জয়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন।
শাহরিয়ার নাজিম জয় ভাই,
আপনি আমার উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। আমি সেটি দেখেছি, মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। আমার জন্য যে উপদেশ দিয়েছেন, সেগুলোও গ্রহণ করেছি। কিন্তু ভিডিওতে আমার মামলা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। সেগুলোর প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন মনে করছি।
আপনি বলেছেন, আমি নাকি আমার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার জন্য মামলা করেছি। আমি জানতে চাই, এই তথ্য আপনি কোথায় পেলেন? আপনি কি কখনও মামলার কাগজপত্রে দেখেছেন? আমার দায়ের করা মামলার কোথাও আমি বউ ফেরত দেওয়ার আবেদন করিনি। বরং বাংলাদেশের আইনের বিভিন্ন ধারায় আমি অপরাধের বিচার ও শাস্তি চেয়েছি। যে মানুষ পরকীয়া করে চলে গেছে, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি আদালতে যাইনি।
আমি মামলা করেছি প্রতিবাদ করার জন্য। রামিসা ধর্ষণ, হত্যা মামলায় যে আমরা যখন বিচার চাইলাম কিসের জন্য? রামিসাকে ফেরত পাওয়ার জন্য? বিচার চাইলাম যাতে অপরাধী শাস্তি পায়, অন্যরা শিক্ষা নেয়, এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করতে ভয় পায়।
আমার অবস্থানও তাই। একই। আমি মনে করি, পরকীয়া ও বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনাগুলো অসংখ্য পরিবার ধ্বংস করছে, অসংখ্য বাচ্চা বাবা-মা হারা হচ্ছে। সেই জায়গা থেকেই আমি আইনি লড়াই করেছি।
হ্যাঁ, এই মামলায় আমি হেরেছি—এটা সত্য। তারা খালাস পেয়েছে—এটাও সত্য। কিন্তু তাই বলে আমার প্রতিবাদ শেষ হয়ে যায়নি। আমি যদি আপিল করি, সেটা কাউকে ফিরে পাওয়ার জন্য নয়। আমি আপিল করবো আমার আমার প্রতিবাদ এবং আমার বিশ্বাসকে আদালতের রেকর্ডে রেখে যাওয়ার জন্য। যেন ইতিহাস সাক্ষী থাকে—এই সমাজে অন্তত একজন মানুষ ছিল, যে পরকীয়া ও বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।
আমাকে বারবার বিয়ে করার পরামর্শ দেন। কিন্তু কেউ কি আমার সন্তানের কথা ভাবেন? যে বাচ্চার মা তাকে ছেড়ে চলে গেছে, তার মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে, তার কথা কি কেউ ভাবেন? আমার মেয়ে মা-হারা হয়েছে। এখন কি তাকে বাবা-হারাও করতে চান?
আমার সামর্থ্য যতটুকু, তা দিয়েই আমি তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। বিয়ে করতে চাইলে আমি ৫ বছর আগেই করতে পারতাম। ভবিষ্যতে বিয়ের প্রশ্ন যদি কখনও আসে, তবে সেটি আমার মেয়ে যখন অন্য কাউকে মানতে পারবে তখন হবে।
সবশেষে, আপনার ভিডিওতে আমার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে মামলা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে যে হুমকি দিয়েছেন সে ব্যপারে বলতে চাই- আমি স্বীকার করি, আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার টাকা নাই। কিন্তু টাকা না থাকলেও অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করা নয়।
গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি আদালতে গিয়েছি, শুনানিতে উপস্থিত থেকেছি, লড়াই করেছি। অসংখ্য ভয়ভীতি, চাপ দেখেছি। যদি এসবের কাছে হার মানতাম, তাহলে অনেক আগেই থেমে যেতাম। তাই আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। আমি নীতিগতভাবে যা বিশ্বাস করি, তার পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস আজও রাখি।
সর্বশেষে শুধু এটুকুই বলবো আমার এই প্রতিবাদ সেই পরকীয়ার বিরুদ্ধে যা অসংখ্য পরিবার ভেঙে দেয়, অসংখ্য বাআ্চাকে মা-বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করে।
আমি আজও দোয়া করি, আমার সন্তানের মতো আর কোনো সন্তান যেন পরকীয়ার কারণে মা-হারা বা পরিবারহারা না হয়। আমার লড়াই কাউকে ফিরে পাওয়ার জন্য নয়; আমার লড়াই পরকীয়া ও ব্যভিচারের বিরুদ্ধে।