প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৬, ২:৪৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৭, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে প্রখ্যাত আলেম গহরপুরীকে জড়িয়ে সিলেট-৩ আসনের এমপি মালেকের বিতর্কিত বক্তব্যে স্যোসাল মিডিয়ায় তোলপাড়?
নিজস্ব প্রতিবেদক : এসবিডিনিউজ : ডেক্স রিপোর্ট: সিলেটের প্রখ্যাত আলেম গহরপুরীকে জড়িয়ে সিলেট-৩ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি মালেকের বিতর্কিত বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে তিব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করেছে।
সিলেটের স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যটি তুলে ধরেছে,আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। আমি সন্দেহ করেছিলাম এই গহরপুর এলাকায় আমি পরাজিত হবো। কারণ ঐ যে আপনাদের রিকশাওয়ালা প্রার্থী ও উনার বাবা গহরপুরী পাকিস্তানের সাপোর্টার বা রাজাকার ছিলেন।
আমি'ত ভেবে ছিলাম এই এলাকার সবাই পাকিস্তানি হয়ে গেছেন। আমার ভুল ভেঙে আপনারা প্রমাণ করেছেন সত্যিই মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে আপনাদের অবস্থান। এই যে যারা সাধারণ মানুষকে ব্লেক ম্যজিক করার চেষ্টা করেছেন, বেহেস্তে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আপনারা তাদের ধোঁকাবাজি, ধান্দাবাজি বুঝতে পেরেছেন বলেই আমাকে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন।
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেকের এই বক্তব্যকে ঘিরেই মূলত সামাজিক যোগাযোগ তীব্র সমালোচনা চলছে এবং গহরপুরী হুজুরের ভক্ত,ছাত্র শিক্ষক এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।তিনি কওমী অঙ্গনের একজন শীর্ষ আলেম ছিলেন বলে জানা গেছে।
হাফেজ আল্লামা নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরী (রহ.) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ইসলামি পণ্ডিত, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান। "গহরপুরী হুজুর" হিসেবে পরিচিত এই বুযুর্গ ইসলাম প্রচার ও দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন বলে জানা যায়
জন্ম ও শৈশব- তিনি ১৯২৪ সালে (মতান্তরে ১৯১৯) সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার শিওরখাল মোল্লাপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত দ্বীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা জহুর উদ্দিন এবং মাতা ছুরেতুন্নেসা। শৈশবেই বাবাকে হারিয়ে তিনি এতিম হন, এরপর মায়ের তত্ত্বাবধানে তাঁর বেড়ে ওঠা।
শিক্ষা জীবন-পারিবারিক পরিবেশে প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি ইছামতি মাদ্রাসা ও সুলতানপুর আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন এবং ১৯৫০ সালে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে টাইটেল পাশ করেন। এরপর তিনি হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর কাছে হাদিস ও ফিকহের বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবন ও অবদান এবং শিক্ষকতা-১৯৫২ সালে তিনি বরিশালের পাঙ্গাসিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় শায়খুল হাদিস হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন, যা তাঁর উচ্চ যোগ্যতার বিরল দৃষ্টান্ত।
জামিয়া গহরপুর প্রতিষ্ঠা -সিলেটে তিনি নিজ উদ্যোগে 'জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুর' প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে একটি অন্যতম প্রধান দ্বীনি কেন্দ্রে পরিণত হয়।
বেফাকের নেতৃত্ব: ১৯৯৬ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড 'বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ'-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
ইন্তেকাল- ২০০৫ সালের ২৬শে এপ্রিল ৮১ বছর বয়সে এই মহান সাধক ইন্তেকাল করেন। তাঁর কর্ম ও জীবনের নানা দিক নিয়ে দেশের প্রথম সারির আলেমদের লেখায় সমৃদ্ধ বিশাল স্মারকগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর একমাত্র পুত্র হাফিজ মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন রাজু জামিয়া গহরপুরের মোহতামিমের দায়িত্ব পালন করছেন।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬