নিজস্ব প্রতিবেদক -এসবিডিনিউজ : সিলেটের সবচেয়ে দূরবর্তী সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে সুরমা-কুশিয়ারার ভাঙন রোধ এবং দেশের মানচিত্রের সংকোচন ঠেকাতে ১৫টি স্থানে সোয়া পাঁচ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান-এর এক প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এ তথ্য জানান।
মোহাম্মদ আবুল হাসান এমপি তার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তার নির্বাচনী এলাকা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের ফলে বাংলাদেশের মানচিত্র সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তিনি জানতে চান।
উত্তরে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। এর প্রায় ৬৬ কিলোমিটার অংশ ভারতের সাথে সীমান্ত জুড়ে রয়েছে। নদী ভাঙনের ফলে এই সীমান্ত রেখা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM) দ্বারা বিশেষ সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ভাঙন রোধে ‘সুরমা কুশিয়ারা অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একনেক (ECNEC) সভায় অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে জকিগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি এবং কানাইঘাট উপজেলায় ২টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নদী তীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট ৫.১৭৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়িত হবে। সংসদকে জানানো হয়, এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হলে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের জনপদ নদী ভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা পাবে।
মন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের ২য় ও ৩য় পর্যায়ের কাজও বাস্তবায়ন করা হবে। পুরো প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্ত হলে বাংলাদেশের সীমানা বা মানচিত্র সংকুচিত হওয়া রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।